Bengal Reader

The Biggest Bengal's Education Portal

আমেরিকার প্রাইমারী স্কুল এডুকেশন সিস্টেম কেমন? জানলে চমকে উঠবেন

পোস্টটি শেয়ার করুন
  • 96
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    96
    Shares

আমেরিকার প্রাইমারী স্কুল এডুকেশন সিস্টেম কেমন? জানলে চমকে উঠবেন

বেঙ্গল রিডার : যদি এমনটা শোনেন, স্কুল বাচ্চাদের ব্যাগে বই থাকে না বা, স্কুল রুমে ব্লাক বা হোয়াইট বোর্ড থাকে না, অথবা ৩ বছর থেকেই বাচ্চাদের স্কুলে ‘জব’ দেওয়া হয়, তাহলে চমকে উঠবেন নিশ্চয়! সত্যি চমকে ওঠার মতই কথা। চমকে উঠলেও এগুলোই সত্যি। তাহলে জেনে নিন, ইউনাইটেড স্টেট অব আমেরিকার মন্তেসারি স্কুল ও সরকারি প্রাইমারী স্কুলের এডুকেশন সিস্টেম।

Praimary Education System Of America

 

বিশ্বের উন্নততর দেশ গুলির মধ্যে প্রথম সারিতে নাম থাকবে আমেরিকার। কিন্তু কেন তারা এত উন্নত বা, কেমনই তাদের প্রাইমারী পড়াশুনার সিস্টেম? কিভাবে সেদেশে বাচ্চাদের শিক্ষা দেওয়া হয়? বর্তমান সময়ে যখন আমাদের দেশ একটি অন্ধকার এডুকেশন সিস্টেমের মধ্যে দিয়ে চলছে, তখন সে’দেশের ‘স্মার্ট স্কুলে’ বাচ্চাদের পড়াশুনার সিস্টেমের কথা শুনলে আপনার কাছে কল্পনা মনে হবে।

জি নিউজের করা রিপোর্ট অনুযায়ী সে’দেশে একটি মন্তেসারি স্কুল তৈরী করতে গেলে প্রথমে ৩ ধরনের লাইসেন্স প্রয়োজন হয়। প্রথম সিটি অর্থাৎ যেখানে স্কুল তৈরী হবে সেখানকার প্রশাসন। তারপর সবথেকে গুরুত্বপূর্ন ফায়ার ব্রিগেড থেকে লাইসেন্স। কারন, আমেরিকাতে বাচ্চাদের সুরক্ষাকে অনেক বড় করে দেখা হয় এবং বাচ্চাদের ব্যাপারে নিয়ম খুব স্ট্রিক। সবশেষে সোশাল সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের।

মন্তেসারি স্কুলে প্রতিটি বাচ্চার জন্যে ৭৫ বর্গফুট জায়গা রাখতে হবে। তবেই স্কুল তৈরীর পারমিশন পাওয়া যাবে। এমনকি নির্দিষ্ট পরিমাপের খেলার মাঠে নির্দিষ্ট সংখ্যক বাচ্চারাই প্রবেশ করতে পারে। একসাথে সবাই ঢুকতে পারে না।

আমেরিকার ‘প্লে স্কুল’ অর্থাৎ প্রাইমারী স্কুলে ৩ বছর থেকে বাচ্চাদের ‘জব ‘ দেওয়া হয়। বিভিন্ন রকমের কাজ শেখানো ট্রেনিং হয় বা দেওয়া হয়। কিভাবে বিভিন্ন মেটেরিয়ালস বের করা হয়, বা ইলেক্ট্রনিক্স জিনিষ খোলা হয়, সেগুলো আবার নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা হয়।

আমেরিকার প্লে স্কুলে বাচ্চাদের গায়ে ‘মার’ তো দূরের কথা, তাদের বকাবকি করাও যাবে না। এবং এ ব্যাপারে আমেরিকা সরকারের নিয়ম খুবই কঠোর। যদি কোনো শিক্ষক সে, প্রাইভেট বা সরকারি হোক বাচ্চার গায়ে হাত ওঠায় তাহলে, সাথে সাথে তার শিক্ষকতা চাকরী থেকে বরখাস্ত করা হয়।বাচ্চাদের উপর কোনো প্রকার জোর করা হয় না, আমেরিকার মন্তেসারি স্কুল গুলিতে। তাদের মত করে, তাদের শেখানো হয়।

এগুলো তো হল আমেরিকার মন্তেসারি স্কুল বা প্লে স্কুলের সিস্টেম। এবার জানবো আমেরিকার সরকারি স্কুলের এডুকেশন সিস্টেম কেমন?

আমেরিকার সরকারি স্কুলে বাচ্চারা তাদের ব্যাগ ক্লাসরুমের ভিতর নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পায় না। বাইরের নির্দিষ্ট যায়গায় রাখতে হয়। বাচ্চাদের পিটের ব্যাগে বই ক্যারি করতে হয় না। শুধু মাত্র জলের বোতল ও টিফিন। কারন, বাচ্চাদের বই স্কুলের মধ্যে নিজেদের ডেস্কে রাখা হয়।

আমেরিকার ৫ম ক্লাস থেকেই সরকারী স্কুল গুলিতে শুরু থেকেই বাচ্চাদের হাতে ট্যাব ( মোবাইল ট্যাবলেট) দিয়ে দেওয়া হয়। যদিও তার আগে থেকে বাচ্চাদের এগুলো বিষয়ে শেখানো হয়।একটি ক্লাস রুমে ৩০ জনের বেশী বাচ্চা থাকতে পারে না। হোম ওয়ার্ক করার জন্যে খাতা – কলমের প্রয়োজন পড়ে না। সব কিছুর জন্যে আই প্যাড। তাদের নিজস্ব ইমেল আই ডি তে হোম ওয়ার্কের কাজ পাঠিয়ে দেন শিক্ষক রা। ক্লাসরুমে বই এর পরিবর্তে টেকনোলোজির প্রয়োগ বেশী দেখা যায়। যাকে বলা হয় ‘ স্মার্ট ক্লাস ‘।

আমেরিকার স্কুল গুলিতে ব্লাকবোর্ড বা হোয়াইটবোর্ড ব্যবহার হয় না বললেই চলে। পরিবর্তে বড় এল.সি.ডি স্ক্রিনে, আই প্যাডের মাধ্যমে সমস্ত কিছু বাচ্চাদের শেখানো হয়।

আরও কিছু তথ্য :

আমেরিকা সরকার GDP (Gross Domestic Product) এর ৫.৫ শতাংশ তাদের এডুকেশনে খরচ করে। ভারত সেখানে GDP এর ৩.৫ শতাংশ এডুকেশনে খরচ করে।

আমেরিকার স্কুলে ১৬ টি ছাত্রের জন্যে ১ জন শিক্ষক আছে। সেখানে, ভারত বর্ষের স্কুলে ৩০ টি বা তার বেশী ছাত্রের জন্যে ১ জন শিক্ষক।

একটা সার্ভে অনুযায়ী আমেরিকা সরকার প্রতি স্কুল ছাত্রের জন্যে প্রায় ৬.৬ লাখ টা প্রতি বছর খরচ করে থাকে। সেখানে ভারতীয় সরকার প্রতি ছাত্রের জন্য বছরে ১৪,৬১৫ টাকা।

আমেরিকার স্কুলে হোম ওয়ার্ক করার জন্যে বাচ্চাদের ট্যাবলেট, কম্পিউটার দেওয়া হয়। যেখানে ভারতবর্ষে ৭৫ শতাংশ স্কুলে কম্পিউটার নামক জিনিষের কোনো সুবিধা নেই।

উপরের তথ্য গুলি পড়ার পর, আমাদের দেশের এডুকেশন সিস্টেমের কথা ভাবলে একটু হলেও অসহায় মনে হবে। দু’টি দেশের বাচ্চাদের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে কতটাই ফারাক। কেন পিছিয়ে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা? পোস্ট টি করার উদ্দেশ্য আমাদের দেশ কে ছোটো করে দেখানোর জন্যে নয়। আমেরিকার মত উন্নততর দেশের প্রাইমারী এডুকেশন শিক্ষা সম্পর্কে জানা । ও আমাদের এই বর্তমান অন্ধকারময় এডুকেশন সিস্টেমকে আলোর পথে আনা।

বি:দ্র : পোস্ট টি উপরের শেয়ার বাটনে গিয়ে সবার সাথেই ফেসবুক বা, হোয়াটঅ্যাপে প্রচুর শেয়ার করুন, সবাই কে জানান।

Join Our Facebook


পোস্টটি শেয়ার করুন
  • 96
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    96
    Shares

Recent Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Bengal Reader © 2018 GK Solve